সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

তাড়াশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই গোডাউন সহ একাধিক বাসাবাড়ি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দৈনিক সমকাল পত্রিকার তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধির কার্যালয় সহ একটি প্লাস্টিক পণ্যের গোডাউন ও বেশ কয়েকটি বাসাবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

 

 

 

মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে তাড়াশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মৃত সম্বু মালের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই বাড়িতে মেসার্স মাবিয়া ট্রেডার্স নামে আরএফএল পণ্যের ডিলার গোডাউন ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতেন প্রোপাইটার মো. রফিকুল ইসলাম।

 

 

 

আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এতে গোডাউনের পাশে থাকা দৈনিক সমকাল পত্রিকার তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধি এম আতিকুল ইসলাম বুলবুলের কার্যালয়, আরও কয়েকটি ব্যক্তিগত অফিস ও বাসাবাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

 

 

 

খবর পেয়ে তাড়াশ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর মো. মনজুরুল আলম বলেন, “আমরা সংবাদ পেয়ে দ্রুতই ঘটনাস্থলে আসি এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তবে প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা যায়নি।

 

 

পশুর মাথাকে শিল্পকর্মে রূপ দিলেন কসাই রিপন

চল্লিশ বছর বয়সী কসাই রিপন আলী। গত ১ দশক ধরে গবাদি পশুর মাথা সংগ্রহের পর তা ব্যবহার করে অত্যন্ত নান্দনিক শোপিস তৈরির এক ব্যতিক্রমী কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। মাটি বা কাঠের শোপিসের প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে তিনি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মাথাকে প্রক্রিয়াজাত করে শৈল্পিক শিল্পকর্মে রূপ দিচ্ছেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে শতাধিক এমন শৈল্পিক শোপিস রয়েছে।

 

 

শুরুর দিকে অনেক উপহাস পোহানোসহ নানা বাধার সম্মুখীন হলেও অবশেষে এই কঠিন কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তিনি। তার এই উদ্ভাবন এখন স্থানীয় দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

 

রিপনের মূল লক্ষ্য- তার এই কাজকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া, যাতে বন্যপ্রাণী নিধন হ্রাস পায় এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

রোববার (৮ জুন) বিকেলে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে একটি রুমে তিনি এসব পশুর শিংসহ মাথাগুলো থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন।

রিপন আলী বলেন, এ বিষয়ে মানুষ এখনো সেইভাবে জানে না। এখানে গরু ও ছাগলের মাথা থেকে তৈরি শোপিস বেশি। তার পরে ভেড়া ও মহিষের রয়েছে। সবাই শিং ওয়ালা মাথা নেয় না। যে শিং ওয়ালা মাথা দেখতে আকর্ষণীয় শুধু সেগুলোই নেয়।

রিপন আলীর এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরির পেছনের গল্পটি দীর্ঘ ১০ বছরের। ধৈর্য, মেধা এবং একাগ্রতার এক অনন্য কাহিনি। তিনি জানান, কসাইয়ের কাজ করতে করতে একদিন মহিষের অনেক বড় শিং ওয়ালা মাথা দেখতে পান রাজশাহীর শালবাগান কসাইপট্টিতে। সেখানকার কসাই মাথা থেকে শিং আলাদা করে ফেলে। এরপরে শিংটি সংগ্রহ করেন তিনি। বিশাল শিং দেখে তার কয়েকজন বন্ধু সংরক্ষনের ধারণাটি দেন যে- প্রাণীর মাথা থেকে তৈরি জিনিসগুলো ভবিষ্যতে মূল্যবান শোপিস হতে পারে। এই ভাবনা থেকেই তিনি ২০১৭ সালে এই কাজ শুরু করেন।

 

 

রিপন আলী আরও জানান- শুরুর দিকে অনেকেই তাকে নিয়ে উপহাস ও অসহযোগিতা করেছিলেন। এমনকি তার পরিবারও পশুর হাড়ের দুর্গন্ধ এবং এতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে বিরক্ত ছিল। তবে এখন দৃশ্যপট বদলেছে; এখন তার পরিবার এবং দর্শনার্থীরা তার এই নান্দনিক কাজের প্রশংসা করছেন।

 

 

তিনি জানান, এই শিল্পকর্ম তৈরির সঠিক পদ্ধতি বা প্রসেস জানার জন্য তিনি অনেক বিশেষজ্ঞ এবং এমনকি ডাক্তারদের পেছনেও ঘুরেছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং গবেষণার মাধ্যমে তিনি এই বিশেষ পদ্ধতিটি আয়ত্ত করেন।

 

 

উপকরণ সংগ্রহ হিসেবে তিনি তার কাজের জন্য কেবল দেশি গৃহপালিত পশুর (যেমন গরু, মহিষ ছাগল, ভেড়া) মাথা ব্যবহার করেন। যা তিনি বাজার থেকে কিনে নেন। এছাড়া বাঘ বা হরিণের মতো অন্য কোনো বন্যপ্রাণীর অঙ্গ ব্যবহার করেন না, যা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বা অবৈধ।

 

 

অনেকেই এসেছেন তার এমন শিল্পকর্ম দেখতে। তবে তারা জানান- পশুর মাথা এমন ভাবে রাখা তারা দেখে এরআগে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা থেকে দেখতে এসেছেন মোকসেদ আলী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে জানি রিপন এই জিনিসগুলো তৈরি করে রেখেছে। জিনিসগুলা খুব ভালো, অনেক মূল্যবান জিনিস। বিশেষ করে রিপন কিছু ব্যয় করছে বা অনেক যত্ন করেছে। তো জিনিসগুলো আসলে খুব ভালো। সে কারণে আমার আসা। পছন্দ হলে আমি একটা নিয়ে যাব।

 

 

সুমাইয়া আক্তার বলেন- আমরা অনেক ধরনের শোপিস দেখেছি। পশুর মাথা ও শিং দিয়ে শোপিস তৈরি করা এই প্রথম দেখলাম। আইডিয়াটা আসল ইউনিট। এমন সাধারণত দেখা যায় না। এখানে আসার পরে দেখে অনেক ভালো লাগছে।

 

 

রাজশাহীর চারঘাট এলাকা থেকে রিপনের শোপিস দেখতে এসেছেন রাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এমন শোপিস সচরাচর চোখে পড়ে না। বড়লোকদের বাসায় হরিণের মাথা, চামড়া এ ধরনের শোপিস দেখা যায়। এটি রিপনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শিংগুলা দেখে একদম জীবন্ত মনে হচ্ছে। তার এখানে পশুর শুধু মাথার দাঁতসহ বিভিন্ন অংশের জিনিসপত্র পার্ট-পার্ট করে খুলে রাখা আছে।

 

 

এই উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়াই রিপন আলীর স্বপ্ন। তিনি মনে করেন, গৃহপালিত পশুর হাড় দিয়ে তৈরি এই শোপিসগুলো যদি সহজলভ্য হয়, তবে মানুষ বন থেকে বাঘ বা হরিণের মাথা ও চামড়া সংগ্রহের মতো অবৈধ কাজ বন্ধ করবে, যা বন্যপ্রাণী হত্যা রোধে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে তিনি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে একে একটি নতুন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।

 

ফুটবলে সাফল্যের স্বীকৃতি, ঋতুপর্ণাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহনির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে গৃহনির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।

 

 

এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্যানসারে আক্রান্ত ঋতুপর্ণার মা ভূজোপতি চাকমার চিকিৎসার জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পরিবারের হাতে চিকিৎসা সহায়তার অর্থ তুলে দেয়।

পাহাড়ি অঞ্চলের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ঋতুপর্ণা চাকমা কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও প্রতিভার মাধ্যমে জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ২০২২ ও ২০২৪ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঋতুপর্ণা। এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তার অবদান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

 

 

ক্রীড়াক্ষেত্রে তার এই সাফল্য শুধু দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেনি, বরং পার্বত্য অঞ্চলের অসংখ্য তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। একজন সংগ্রামী নারী ফুটবলারের জীবনমান উন্নয়নে গৃহনির্মাণ সহায়তার এই উদ্যোগকে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঋতুপর্ণা চাকমার এই সম্মাননা ও সহায়তা দেশের নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

উল্লেখ্য যে, ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় এই বিশেষ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়।

 

 

ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিভাবান যুবসমাজকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঋতুপর্ণাকে দেওয়া এই উপহার তারই একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত।

 

‘রকস্টার’ প্রযোজক স্বর্ণাকে কি এবার দেখা যাবে নায়িকারূপে?

পর্দার পেছনের কারিগর যখন নিজেই সৌন্দর্যের আলো ছড়ান, তখন ক্যামেরার সামনে তাঁর দাঁড়ানো স্রেফ সময়ের ব্যাপার মাত্র! বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে ঠিক তেমনই এক নতুন ঝড় তুলেছেন রিজুতি আহমেদ স্বর্ণা। তবে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চেনা ছক ভেঙে পর্দার সামনে নয়, ঢালিউডে তাঁর পা রাখা রাজকীয়ভাবে—একদম প্রযোজকের আসনে বসে। মেগাস্টার শাকিব খানের সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার ‘রকস্টার’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালী পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এই সুন্দরী। আর প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত! ‘রকস্টার’-এর আকাশচুম্বী সাফল্যের পর এবার নতুন এক গুঞ্জন ডালপালা মেলছে ঢালিউডের আনাচে-কানাচে। প্রযোজক স্বর্ণা কি তবে এবার নিজেই নতুন নায়িকা হিসেবে ধরা দিতে যাচ্ছেন ক্যামেরার সামনে?

 

 

নিজের এই নতুন পথচলা নিয়ে উচ্ছ্বসিত রিজুতি আহমেদ স্বর্ণা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই যাত্রা আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিন মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর বাংলা সিনেমায় কাজ শুরু করলাম, তাও আবার মেগাস্টারের সঙ্গে! তবে ‘রকস্টার’-এর এই যাত্রাটা মোটেও মসৃণ ছিল না। কঠিন হলেও এই পথচলা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাচ্ছি, তাতে পুরো ‘রকস্টার’ টিম মুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ।‘

 

 

সময়ের এই আলোচিত প্রযোজক আগামীতে নিজেই নায়িকারূপে পর্দায় হাজির হবেন কিনা—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নেটিজেনদের মনে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে স্বর্ণা বেশ রহস্যই জিইয়ে রাখলেন। মৃদু হেসে তিনি বলেন, ‘আসলে একটি সাক্ষাৎকারের পর দর্শকদের অনেকেই দেখছি সেই ভিডিওটি শেয়ার করে আমাকে অভিনয় করার উৎসাহ দিচ্ছেন। সবার এই আগ্রহ আমাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। এখন দেখা যাক, সময় আসলে আমাকে কোন দিকে নিয়ে যায়।‘

অভিনয় নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু না জানালেও, ভিজ্যুয়াল মিডিয়া নিয়ে নিজের বড় স্বপ্নের কথা লুকাননি এই নারী প্রযোজক। কাজের প্রতি নিজের তাড়না প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শেখার কোনো শেষ নেই। তাই আগামী দিনগুলোতেও বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র এবং এই সৃজনশীল মিডিয়া জগতের জন্য কাজ করে যেতে চাই। নতুন গল্প বলতে চাই, নতুন স্বপ্ন গড়তে চাই। আমার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের কনটেন্ট ও চলচ্চিত্রকে বিশ্ব দরবারে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া।‘

সিনেমার পেছনে থেকে যিনি প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন, তিনি সামনের দিনে পর্দার সামনে আসেন নাকি পেছনেই রাজত্ব করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে স্বর্ণার ভাষায়, ‘এই যাত্রা এখনও শেষ হয়নি। বরং মনে হয়, সত্যিকারের যাত্রা এখনই শুরু।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ বিষয়ক কর্মশালা উপজেলা মডেল মসজিদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ৯ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত  এ কর্মশালা বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ – ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন  চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার [ভূমি] সানাউল মোর্শেদ ও ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ আঃ বারিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার নাসিমউদ্দিন। এ কর্মশালায় বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে উপস্থিত প্রতিনিধিরা মতামত প্রদান করেন।
মতামত সমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল, যে ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বিচারের রায় মানতে তালবাহানা করে বা বিচারকালীন নোটিশে সাড়া দেয় না বা বিচার কার্যে অংশগ্রহণ করে না, এমতাবস্থায় গ্রাম আদালতের রায়  থানা পুলিশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। জবাবে সহকারী কমিশনার, ভূমি বলেন, সরকার আইন প্রণয়ন করলেই সেটা করা যাবে। গ্রাম আদালতের সেবা নিতে জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী সন্ধ্যা রানী।

প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে নারীর রহস্যজনক মৃত্যু

 

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে এসে লক্ষ্মী রানী (৩০) নামের এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক স্বপন (৪০) অধিকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

 

 

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুপুরে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের কান্দিকুল গ্রামের চিত্ত রায়ের বাড়ি থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

 

নিহত লক্ষ্মী রানী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার বীরেন্দ্র মন্ডলের মেয়ে। এদিকে আটক স্বপন অধিকারী একই জেলার সখিপুর গ্রামের রবীন্দ্র অধিকারীর ছেলে।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে প্রেমের টানে প্রেমিক স্বপনের হাত ধরে ধামরাইয়ে আসেন লক্ষ্মী রানী। রাতে কান্দিকুল গ্রামে চিত্ত রায়ের বাড়িতে অবস্থানকালে উভয়ের মধ্যে চরম মনমালিন্য হয়। একপর্যায়ে প্রেমিক স্বপন কৌশলে লক্ষ্মী রানীকে ঘরে একা রেখে অন্যত্র চলে যান। পরবর্তীতে ঘরের ভেতর ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লক্ষ্মী রানীর মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্য লুকিয়ে রয়েছে-এ নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

 

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

 

বেতন-ভাতা বাড়ার আভাস, বাজেটে সুখবর

পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপের বরাদ্দ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে থাকছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে ‘মিড ডে মিল’ ও ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ চালুর উদ্যোগও থাকছে নতুন বাজেটে।

 

 

এদিকে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি বিদেশি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে নতুন বাজেটে; নতুন ভাষা শিখতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটের মোট আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা; রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া এনবিআরের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যার ৪৮ শতাংশ পূরণ হবে বৈদেশিক উৎস থেকে আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ৫২ শতাংশ। এবার সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ থাকছে ৩০ শতাংশ। মেট্রোরেলেও ২৮ সাল পর্যন্ত থাকছে ভ্যাট অব্যাহতি। ঋণ ও আমানতে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারী শুল্ক মওকুফ। আগে ছিল ৩ লাখ টাকা। তবে স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ভ্যাট বসছে ২৫০০ টাকা। আর নতুন করে দেশীয় মদে লিটার প্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট দিতে হবে।

 

আরও ৩ শিশুর হামের উপসর্গে মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৪ জনের মধ্যে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৮০ জন, যাদের মধ্যে ৯৩৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫৪ জন। সব মিলিয়ে গত ৮৬ দিনে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৮৪ জনে। এদের মধ্যে ৬৬ হাজার ১৭০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ছাড়া একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৮৩৩ জন।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ১ হাজার ১৪ জনসহ এখন পর্যন্ত মোট ৬২ হাজার ২৯২ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

 

‘আমাদের দা-কুড়াল সম্পর্ক না’ পূর্ণিমাকে নিয়ে বললেন শাবনূর

নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডের দুই জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন শাবনূর ও পূর্ণিমা। সমসাময়িক সময়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকায় তাদের সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যে নানা জল্পনা কল্পনা ছিল দীর্ঘদিন। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও সেই ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

 

 

নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাবনূরের সঙ্গে কাটানো একটি পুরোনো মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করেছেন পূর্ণিমা। ভিডিওটির সঙ্গে তিনি লিখেছেন শাবনূর শুধু একজন সফল তারকাই নন একজন অসাধারণ মনের মানুষও।

 

 

পোস্টে পূর্ণিমা লেখেন, ‘কিছু মানুষ শুধু তারকা নন তারা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন। বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শাবনূর আপু। পর্দার সাফল্যের বাইরেও তিনি একজন অসাধারণ মনের মানুষ। দুই তিন বছর আগে তার সঙ্গে কাটানো এই মুহূর্তটি আজও আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় স্মৃতিগুলোর একটি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘বাংলা সিনেমায় আপনার অবদান যেমন অবিস্মরণীয় তেমনি মানুষ হিসেবেও আপনি অসাধারণ। আপনাকে বড় পর্দায় খুব মিস করি। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।’

তবে ভিডিওটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল শাবনূরের একটি মন্তব্য। ক্যামেরার সামনে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘দেখো আমাদের কিন্তু একদম দা কুড়াল সম্পর্ক না!’

শাবনূরের এই মন্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই মনে করছেন দীর্ঘদিন ধরে দুই নায়িকার সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত নানা গুঞ্জনের জবাব যেন এক বাক্যেই দিয়ে দিয়েছেন তিনি।

 

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর ভক্তদের অনেকেই নস্টালজিয়ায় ভাসছেন। তাদের মতে নব্বইয়ের দশকের দুই জনপ্রিয় তারকাকে একসঙ্গে দেখে পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরে এসেছে। একইসঙ্গে পর্দার প্রতিযোগিতার বাইরে দুই শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বিষয়টিও সামনে এসেছে নতুনভাবে।

 

প্রতি নাগরিকের বিপরীতে একাধিক সিম, দ্বিগুণে পৌঁছাল নিবন্ধন

দেশে বর্তমানে মোবাইল কোম্পানির বৈধ ৩২ কোটি ৮২ লাখ সিম নিবন্ধিত রয়েছে। যা দেশের জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ।

 

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির তারকা চিহ্নিত লিখিত প্রশ্নে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের কাছে জানতে চান যে, বর্তমানে দেশে মোবাইল কোম্পানির সংখ্যা কত? উক্ত মোবাইল কোম্পানির বৈধ সিমের সংখ্যা কত?

 

 

জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে মোবাইল কোম্পানির সংখ্যা চারটি। কোম্পানিগুলো হলো- টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা পিএলসি ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড। উক্ত মোবাইল কোম্পানিগুলোর বৈধ রেজিস্টার্ড সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ টাকা।

এদিকে ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।

 

 

উচ্চ আদালতে পৌঁছাল রামিসা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের নথি

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড (ডেথ রেফারেন্স) অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে এসেছে।

 

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুই আসামির ফাঁসির রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

 

 

ফৌজদারি কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত।

এর আগে গত ৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মৃত্যুদণ্ডের এ রায় ঘোষণা করেন।

পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

 

বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নীহা, বললেন ‘সবই বাস্তবতার অংশ’

গেল ঈদুল আজহায় প্রচারিত নাটকগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত নাম ‘মায়া পাখি’। নাটকের গল্প ও অভিনয় প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মজীবী নারীদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করায় সমালোচনার মুখেও পড়েছে এটি। এবার এই সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন নাটকের মায়া চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেত্রী নাজনীন নীহা।

 

 

সমালোচকদের জবাবে নীহা জানান সমাজে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে এবং বাস্তবতার আলোকেই গল্পটি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাস্তবে এরকম ঘটনা অনেক আছে। গল্পের প্রয়োজনে সেগুলোই তুলে ধরা হয়েছে। অবাস্তব কিছু দেখানো হয়নি। খারাপ কিছুও উপস্থাপন করা হয়নি। দর্শকদের জন্য শিক্ষণীয়ও বলতে পারেন। কেননা খারাপ কিছুর ফল কখনও ভালো আসে না। নাটকটি দেখে তারা এটা বুঝতে পারবেন।’

 

 

সমালোচনার পাশাপাশি নাটকটি নিয়ে দর্শক প্রশংসায়ও ভাসছেন এই অভিনেত্রী। এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব নির্মাতা ও সহশিল্পীকে দিয়ে নীহা বলেন, ‘এটা সম্ভব হয়েছে অপূর্ব ভাইয়া ও সৌখিন ভাইয়ার জন্য। এটা এভাবে করো ওটা ওভাবে করো ওনারা প্রত্যেকটি জিনিস এরকম ধরে ধরে বলে দিয়েছেন। আমিও আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করছি। আগেও বলেছি আমি শিখছি। এটা আমার শেখার সময়। সবাই পছন্দ করছে শুনে ভালো লাগছে। আরও ভালো করার চেষ্টা করব।’

উল্লেখ্য ‘মায়া পাখি’ নাটকটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক জাকারিয়া সৌখিন। গল্প ভাবনার পাশাপাশি এতে নীহার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। এরই মধ্যে ইউটিউবে বেশ সাড়া ফেলেছে নাটকটি।

 

অস্ট্রেলিয়াকে লড়াকু লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা

তানজিদ তামিম, শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেনের ফিটিতে ভর করে অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ১৫ বছর পর দেশের মাটিতে অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলতে নেমে প্রথমে ব্যাটিং করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

 

 

যদিও শুরুতেই সাঝঘরে ফেরেন সাইফ, এরপর আস্তে আস্তে পার্টনারশীপ গড়ে তোলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম। তবে দুজনেই ফিফটির পর আর উইকেটে থাকতে পারেননি। ৩৬ রানে দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে প্রায় ৪ বছর পর দলে ফিরেই মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াকু লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা।

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক। এছাড়া শান্ত করেন ৬৭ রান আর তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রান। তাসকিন শেষ দিকে খেলেন ১৫ বলে ২০ রানের কার্যকরী ইনিংস। তবে আজও ব্যর্থ হয়েছেন মিরাজ। এদিন ১২ বলে ৩ রান করে আউট হন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

তবে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে একাই লড়াই করেছেন মোসাদ্দেক। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির দিনে খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসও। নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগে ৭০ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার।

মোসাদ্দেকের সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন লোয়ার অর্ডারে নামা তাসকিন আহমেদ। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ২০ রান রান করেছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন নাথান এলিস। এছাড়া ম্যাট রেনশো ও লিয়াম স্কট ২ এবং ব্রাটলেট একটি উইকেট শিকার করেন।

দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিলে যোগ দিলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৪:১৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

শেরপুরে শিবু নামে আর্জেন্টিনার এক সমর্থক দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিলে যোগ দিয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) রাতে শেরপুর জেলা শহরের চাপাতলি এলাকার এ ঘটনা ঘটে।

 

 

জানা যায়, আর্জেন্টিনা সমর্থক শিবু গতরাতে সিদ্ধান্ত নেন দল বদল করে ব্রাজিলে যোগ দেবেন। পরে তাকে তার বন্ধুরা এবং ব্রাজিলের সমর্থকরা ১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাজিল শিবিরে যোগদান করান।

 

 

এ সময় ব্রাজিল সমর্থক মেহের খান অপু, আব্দুল্লাহ আল নাইম, রায়হান ইসলাম রাব্বী, জাকির হোসেনসহ ১০ থেকে ১২ জন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ব্রাজিল সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানান। দল পরিবর্তনের কারণ জানিয়ে শিবু বলেন, আমি শুধু মেসির কারণে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ।

 

 

বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে আগের মতো তারকাখচিত খেলোয়াড় নেই। তাই দলটির ওপর আগের মতো ভরসা পাচ্ছি না। অন্যদিকে ব্রাজিলের শৈল্পিক ফুটবল সবসময়ই আমার ভালো লাগে। নেইমার আমার প্রিয় খেলোয়াড়দের একজন। এসব কারণেই আমি ব্রাজিলকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

ব্রাজিল সমর্থক আলিম বলেন, ১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে শিবু ভাই আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাজিলের সমর্থক হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শুধু মেসির কারণে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছিলেন। কিন্তু এটি যেহেতু মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে এবং বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে আগের মতো ভালো খেলোয়াড় নেই বলে তিনি মনে করেন, তাই দলটির প্রতি তার আস্থা কমে গেছে।

 

অন্যদিকে ব্রাজিলের শৈল্পিক ফুটবল এবং নেইমারকে তার ভালো লাগে। এ কারণেই তিনি ব্রাজিলের সমর্থক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

ব্রাজিল সমর্থক জাকির হোসেন বলেন, শিবুর এই সিদ্ধান্তে আমরা স্বাগত জানাই। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এ ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক। তিনি এখন আমাদের ব্রাজিল শিবিরের অংশ, আমরা তাকে সঙ্গে নিয়ে ব্রাজিলের জয় কামনা করি।

 

বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যে শেরপুরের এই অভিনব দলবদলের ঘটনা এখন স্থানীয়দের আলোচনার অন্যতম বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সৈয়দপুরে অভিযানেও থামছে না মাদক: সহজেই মিলছে মদ-গাঁজা

মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান থাকলেও নীলফামারীর সৈয়দপুরে চোলাই মদ, ট্যাপেন্টাডল  ট্যাবলেট ও গাঁজার অবাধ বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে এসব মাদকদ্রব্য বিক্রি
হচ্ছে। ফলে বিশেষ করে নিম্নআয়ের তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদক নির্মূলে মে ও জুন মাসজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার পরও সৈয়দপুরে মাদকের সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের কয়েকটি এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চোলাই মদ, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজার কেনাবেচা চলে। বিশেষ করে নিম্নমূল্যের হওয়ায় এসব মাদকের প্রতি নিম্নআয়ের তরুণ ও শ্রমজীবী মানুষের চাহিদা বেশি। মাদকসেবীদের একটি অংশ চোলাই মদের সঙ্গে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট মিশিয়ে অধিক নেশাজাতীয় প্রভাব সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীরা কোমল পানীয়ের বোতল ও বিভিন্ন ব্যাগে করে মাদক বহন ও বিক্রি করে থাকে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে বিশেষ সংকেত বা কোড ব্যবহার হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হলেও তারা জামিনে বের হয়ে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে গোপন অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকা থেকে রাতের আঁধারে চোলাই মদ সৈয়দপুরে আনা হয়। মাদক বহনকারীরা সাধারণত সাইকেল ও জ্বালানিবাহী পাত্র ব্যবহার করায় সহজে সন্দেহের উদ্রেক হয় না। পরে এসব মাদক শহরের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
তবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদক সরবরাহের উৎস শনাক্ত করে ধারাবাহিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাকিব হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বেগমগঞ্জে প্রকাশ্যে রাজমিস্ত্রিকে গুলি করলো দূর্বৃত্তরা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে ফারুক হোসেন (২৭) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কালামিয়ার পোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ফারুক হোসেন হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ফারুক হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালামিয়ার দোকান এলাকায় রাস্তার পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে তার তলপেট ও হাঁটুতে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত ফারুককে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, ফারুকের তলপেট ও হাঁটুতে গুলি লেগেছে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান বলেন, দুর্বৃত্তরা আকস্মিকভাবে ওই যুবককে গুলি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি স্থানীয় গ্যাং বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে আ.লীগ! তবে….

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব মানদণ্ড রয়েছে সেগুলো পূরণ করতে পারলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অংশ নিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।

 

আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী দেশে আছেন, তাদের কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে সরকার সেই স্পেস বা সুযোগ দেবে কি না?

 

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মি. রহমান বলেন, “কোনো রকম কোনো সমস্যা নেই… মানে একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের, কারণ, এটা নির্দলীয়।”

 

”তবে সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায়, প্রচার প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের কথা বা তাদের যা বলা সেগুলো সামনে এনে প্রচারণা চালান তাহলে সেটা সমস্যা”, বলেন মি. রহমান।

 

তিনি বলেন, “ব্যক্তি হিসেবে যে কেউ যদি ক্রাইটেরিয়া যা যা আছে সেটি ফুলফিল করতে পারে, তিনি যদি মনে করেন যে তিনি নির্বাচন করবেন তিনি নির্বাচন করতে পারেন। সরকারের দিক থেকে বাঁধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।”

 

স্কুলছাত্রী হত্যার আসামির বাড়িতে আগুন: তিনজন নিহত

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৩:৩৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

পাবনায় স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন হত্যার জেরে প্রধান আসামি নাঈমের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনে দগ্ধ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একজন এবং মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে অপর দুজনের মৃত্যু হয়।

 

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির, একই এলাকার ইউসুফের ছেলে সাবু এবং পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ।

 

 

তারা ঘটনার সময় প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা নাঈমের সঙ্গে স্কুলছাত্রী রিয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

 

 

গত ২ জুন সকালে নাঈমের বাড়িতে রিয়ার সাথে পাওনা টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নাঈম। পরে দুই বন্ধুর সহায়তায় লাশ একটি প্রাইভেটকারে করে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পীরপুর এলাকার পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন ৩ জুন নদী থেকে রিয়ার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ এবং ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা প্রধান আসামি নাঈমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। সে সময় নাঈমের পরিবারের কেউ বাড়িতে না থাকলেও, ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আগুন নেভাতে আসা প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতার বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন ৮ জুন বিকেলে ও সাবু এবং সাব্বিরের ৯ ‍জুন সকালে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

এবার শিশুর চিকৎসা করাতে এসে হাসপাতালে গণধর্ষণের শিকার মা

এবার শিশু সন্তানের চিকিৎসা করতে এসে গণধর্ষণের শিকার হলেন মা। ঘটনাটি ঘটেছে নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন সুইপারের বিরুদ্ধে। শিশুটির জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

 

এ সময় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ঘটনাটি প্রকাশ করলে ভিডিও ছাড়ার হুমকি দেন অভিযুক্তরা। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত সুইপারদের ডাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ওই নারীকে আইনি পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সুইপারদের ডেকে শুধু শাসিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত তিন সুইপারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের ওই তিন সুপারভাইজার আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন— সুইপার অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গন (২৪)।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর ২ বছর বয়সী শিশুকন্যা অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৫ জুন তাকে নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। শিশুটির বাবা পেশায় অটোচালক। গত ৮ জুন সকাল ১০টায় শিশুটির বাবা হাসপাতালে স্ত্রী- সন্তানের খোঁজ নিতে এসে দেখেন তারা কেউ সেখানে নেই।

 

এ সময় তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী ও কন্যাকে হাসপাতালে নার্সদের থাকার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন একটি বেডে তার স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে শুয়ে আছেন। এ সময় তার স্ত্রী জানান, গত ৭ জুন সকাল ১০টায় শিশুর জন্য ওষুধ নিতে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয়ে অভিযুক্ত সুইপার অমিত তাকে ডাকতে আসেন। শিশুটিকে রেখে তিনি অমিতের সঙ্গে হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলায় গেলে সেখানে অনিল ও প্রাঙ্গণ নামে অপর দুই সুইপারের সহায়তায় অমিত তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় পুরো ঘটনাটি অনিল ও প্রাঙ্গন মোবাইলে ভিডিও করে।

 

অমিতসহ অন্যরা ঘটনাটি না জানাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

 

এদিকে, শিশুকে রেখে তার মা চলে যাবার পর সে কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতালের নার্সরা তার মাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এ সময় তাকে না পেয়ে হাসপাতালের সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় ৬ষ্ঠ তলার ঘটনাটি। তখন হাসপাতালের আনসার সদস্যরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে।

 

হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে ছয় তলার সিঁড়িতে গিয়ে তাদের পাই। এরপর তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমে অভিযুক্তরা ঘটনাটি স্বীকার করেনি। পরে যখন ভুক্তভোগী নারী চড়াও হন তাদের ওপর তখন তারা সব স্বীকার করে।

 

হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মন্নাফ হোসেন দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী নারী বলেন, অমিত আমাকে ধর্ষণ করে। অপর দুজন ভিডিও করে মোবাইলে। অমিতের পর তারাও আমার সঙ্গে এমনটা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সময় হাসপাতালের লোকজন এসে পড়ায় তারা পালিয়ে যায়।

 

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

ঘটনাটি জানার পর কেন অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হলো এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি জানান, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

 

নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, বিষয়টি জানা আছে। মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নোয়াখালীতে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ২১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুধারাম থানাধীন দক্ষিণ কাদির হানিফ এলাকার জনৈক মামুনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মো. ওমর ফারুক সোহান (৩৭), পিতা-মৃত মাহাবুবুর রহমান, মাতা-রাশেদা বেগম, সাং-জয় কৃষ্ণপুর (রাশেদা মঞ্জিল), ৪নং পৌর ওয়ার্ড, নোয়াখালী পৌরসভা, থানা-সুধারাম, জেলা-নোয়াখালীকে আটক করা হয়।
আটকের পর তার দেহ তল্লাশি করে ২১ (একুশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হাকিমপুরে ৭২৭ দু:স্থ নারীর মাঝে ভিডাব্লিউবি’র চাল বিতরণ

 

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক ‘ভলনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত গ্রামীণ দুস্থ ও অসহায় নারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৭২৭ জন কার্ডধারী নারীর প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।
আজ সকাল ১১টার দিকে চাল বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিমুল হোসেন এবং তদারকি কর্মকর্তা ও হাকিমপুর উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মশিউর রহমান বকুল, আক্তার হোসেন বাবু, মাসুদ রানা এবং মহিলা ইউপি সদস্য বুলবুলি খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
চাল নিতে আসা কয়েকজন দুস্থ নারী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাজারে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম অনেক বেশি। এই কঠিন সময়ে প্রতি মাসে ফ্রিতে ৩০ কেজি করে চালের বস্তা পাওয়া আমাদের মতো গরিব ও দুস্থ পরিবারের জন্য অনেক বড় সুবিধা। অন্তত চাল কেনার বাড়তি চিন্তাটা করতে হচ্ছে না। আমরা সরকারের এই উদ্যোগের জন্য মন থেকে দোয়া করি।
বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নাজিমুল হোসেন জানান, সরকারি সব নির্দেশনা ও সঠিক নিয়ম মেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে বোয়ালদাড় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের অতি দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় ৭২৭ জন কার্ডধারী নারীর মাঝে এই চাল সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা হয়েছে। অসহায় মানুষের কল্যাণে সরকারের এই সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।

রামিসার পাশের বাসার ৫ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সম্প্রতি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বাসার পাশের বাড়ি থেকে ইব্রাহিম নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শিশুটির আশপাশে যাকে শেষবার দেখা যায়, তিনি বাড়িওয়ালার ছেলে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

 

 

এ বিষয়ে দুদিন আগে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ বলছে, বাড়িওয়ালার ছেলের যুক্ত থাকার বিষয়ে তাদের কাছে এখনো কোনো প্রমাণ নেই।

 

 

নিখোঁজ শিশুটির বাবা-মা জানান, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও বাসার সামনে খেলছিল ইব্রাহিম। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ঠিক ৭টা ২১ মিনিটে তাকে হঠাৎ বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে সে একা ছিল না; তার পেছনে পেছনে এক ব্যক্তিকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

 

 

ভেতরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইব্রাহিমের একটি চিৎকার শোনা যায়। এর মাত্র কয়েক মিনিট পর ভেতরে প্রবেশ করা সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কিন্তু ইব্রাহিমের আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

 

জানা গেছে, শিশুটির পরিবার যে বাড়িতে থাকে, তা রামিসাদের ভবন থেকে মাত্র ৩ গলি দূরে। বাড়িটির ছাদে সবাইকে যেতে দেওয়া হয় না। ঘটনার সময় ছাদটি যথারীতি তালাবদ্ধ ছিল। ছাদে যাওয়ার একমাত্র চাবিটিও বাড়ির মালিকের কাছে থাকে। ফলে এত অল্প সময়ের মধ্যে শিশুটি কোথায় উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে বড় ধরনের রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করছেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের কখনো কোনো ধরনের ঝগড়া বা মনোমালিন্য হয়নি। তবে তাদের অভিযোগ, বাড়িওয়ালার দুই ছেলে মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা পরিকল্পিতভাবে এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ তাদের।

 

 

এ বিষয়ে ইব্রাহিমের বাবা বলে, ‘আমরা এখানে ১০ বছর ধরে আছি। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। বাড়িওয়ালার দুই ছেলে নেশা আর অনলাইন জুয়া খেলেন। আমাদের ধারণা, টাকার জন্যই তারা আমার নিষ্পাপ সন্তানকে আটকে রেখেছেন।’

 

 

এ ঘটনার পর পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘নিখোঁজ শিশুটির পরিবার দুদিন আগে মামলা করেছে। আমরা তদন্ত করছি। তবে তারা আমাদের কাছে বাড়িওয়ালার ছেলেদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি।’

 

 

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরপুর জোনের মিরপুর জোনের ডিসি মোস্তাক সরকার কালবেলাকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পরিবার আমাদের কাছে বাড়িওয়ালার ছেলের বিষয়ে কিছু জানাননি। এমন প্রমাণও এখন পর্যন্ত নেই। যদি তারা অভিযোগ করেন, আমরা খতিয়ে দেখব।’

সূত্র: কালবেলা

রায়গঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পূর্বলক্ষীকোলা গ্রামে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, সোমবার (৮ জুন) দুপুরে রায়গঞ্জ পৌরসভার পূর্বলক্ষীকোলা গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী (৪৫) দুই শিশুকে বিড়ি কিনে আনার জন্য ৩০ টাকা দেন। পরে শিশুরা স্থানীয় একটি দোকান থেকে ২৫ টাকার বিড়ি ও ৫ টাকার ফুচকা কিনে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে পৌঁছালে হযরত আলী শিশুদের ঘরের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে তিনি সাত বছর বয়সী শিশুটিকে বিছানায় শুইয়ে তার পোশাক খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। পরে দুই শিশুকে ২০ টাকা করে দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেন।
শিশুটি বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি তার মাকে জানালে বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির মা রায়গঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জেনেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা যায়। পাশাপাশি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরগুলোও বন্ধ থাকায় তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, বিষয়টি থানার নজরে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসাবে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কামারখন্দে ৩০ পরিবার অবরুদ্ধ: নেই লাশ বের করার রাস্তাও

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের কালিবাড়ি পলাশডাঙ্গা গ্রামে প্রায় ৩০টি পরিবার চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একই গ্রামের আব্দুল মজিদ দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ঘর নির্মাণ করায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সূত্রে জানা যায়, তারা আব্দুল মজিদের কাছ থেকেই জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। জমি বিক্রির সময় চলাচলের জন্য একটি রাস্তা থাকলেও সম্প্রতি সেই রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এলাকাটির প্রায় ৩০টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

 

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে তারা একটি সংকীর্ণ বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছেন। তবে সেই পথ এতটাই সরু যে সাইকেল নিয়েও চলাচল করা কষ্টসাধ্য। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিকল্প পথের সীমানা ঘেঁষেও ঘর নির্মাণ করায় চলাচলে আরও দুর্ভোগ বেড়েছে।

 

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন বেশ কয়েকবার এলাকাবাসীকে নিয়ে রাস্তা বের করার উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। তিনি দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি খাস শ্রেণিভুক্ত।

 

অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রায় ৩০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। চলাচলের প্রধান রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কোনো যানবাহন প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।”

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা বেগম বলেন, “আমাদের এমন অবস্থা হয়েছে যে, কেউ মারা গেলে লাশ বের করার মতো রাস্তাও রাখা হয়নি। যে বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াত করছি, সেখানে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়েও চলাচল করা কঠিন। কিছু বলতে গেলে আব্দুল মজিদের ছেলে ও ভাতিজারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়।”

 

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের চলাচলের জন্য স্থায়ীভাবে রাস্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মজিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এক মাসে দুইবার তেঁতুল গাছের মগডালে সাজেদা বেগম!

এক মাস পার হতে না-হতেই আবারো আলোচনায় সাজেদা বেগম। এক মাসের ব্যবধানে দুইবার তেঁতুল গাছের মগডালে উঠে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ওই নারী।
আজ সোমবার সকালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গোড়াই আনন্দবাজারে এক মাসের ব্যবধানে আবারো তেঁতুল গাছের মগডালে ওঠেন সাজেদা বেগম। তিনি ওই গ্রামের আবু সাঈদের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাজেদা বেগম এর আগেও একইভাবে ওই গাছের মগডালে উঠেছিলেন। গত মাসের ৬ মে তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা মিলে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ের একটি তেঁতুল গাছের মগডালে তাঁর দেখা পান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রচেষ্টায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
তবে মাস পেরোতেই আবারও সেই একই রকম ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। খবরটি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পরিবার এবং স্থানীয়রা ওই নারীকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা চালায়। এরপর সাজেদা বেগম স্বাভাবিকভাবে গাছ থেকে না নেমে পাশে থাকা পুকুরে ঝাঁপ দেন।
একই ঘটনা দেখে অনেকে অনেক রকম মন্তব্য করছেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। কেউ কেউ এটাকে মানসিক সমস্যা, আবার কেউ কেউ জ্বীন-ভূতের আছর বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে সাজেদা বেগমের স্বামী আবু সাঈদ ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, এর আগে গত ৬ মে সে একইভাবে তেঁতুল গাছের উপরে ওঠে। পরে আমরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের জানালে তারা এসে উদ্ধার করেন। গত মাসের মতো আজ সকালেও সে নিখোঁজ ছিল। আমরা অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে গাছের উপর দেখতে পাই। পরে বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের ভিড় শুরু হয়। সবার বলাবলির একপর্যায়ে আমার স্ত্রী গাছ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেয়। আমরা তাকে ভালো ডাক্তার দেখিয়ে আসল সমস্যা চিহ্নিত করব এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেব, যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধকে হত্যার বিচার দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় মামলা নথিভুক্তের দাবিতে লাশ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
নিহত আফাজ উদ্দিন (৬২) উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, জমিতে থাকা গাছের পাতা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাছের পাতা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় গত ৩ জুন প্রতিপক্ষের ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন আফাজ উদ্দিনের পরিবার। অভিযোগের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে একই দিন ভোররাতে অভিযুক্তরা আফাজ উদ্দিনের শয়নকক্ষে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
স্থানীয়রা তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (৬ জুন) বিকেলে তিনি মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর কয়েকদিন পার হলেও পুলিশ তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করেনি। এ কারণে সোমবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে করে আফাজ উদ্দিনের মরদেহ থানার সামনে এনে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
বিক্ষোভকারীরা মামলা নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. নুর হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সোমবার নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আগে অভিযোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের জন্য ফেরত দেওয়া হয়। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেনবাগে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের এক পরিচালকসহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে ২ জন, কিশোর গ্যাংয়ের পরিচালক হিসেবে ১ জন এবং ধর্তব্য অপরাধ নিবারণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

One thought on “তাড়াশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই গোডাউন সহ একাধিক বাসাবাড়ি

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

তাড়াশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই গোডাউন সহ একাধিক বাসাবাড়ি

আপডেট টাইম : ০৭:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দৈনিক সমকাল পত্রিকার তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধির কার্যালয় সহ একটি প্লাস্টিক পণ্যের গোডাউন ও বেশ কয়েকটি বাসাবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

 

 

 

মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে তাড়াশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মৃত সম্বু মালের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই বাড়িতে মেসার্স মাবিয়া ট্রেডার্স নামে আরএফএল পণ্যের ডিলার গোডাউন ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতেন প্রোপাইটার মো. রফিকুল ইসলাম।

 

 

 

আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এতে গোডাউনের পাশে থাকা দৈনিক সমকাল পত্রিকার তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধি এম আতিকুল ইসলাম বুলবুলের কার্যালয়, আরও কয়েকটি ব্যক্তিগত অফিস ও বাসাবাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

 

 

 

খবর পেয়ে তাড়াশ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর মো. মনজুরুল আলম বলেন, “আমরা সংবাদ পেয়ে দ্রুতই ঘটনাস্থলে আসি এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তবে প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা যায়নি।

 

 

পশুর মাথাকে শিল্পকর্মে রূপ দিলেন কসাই রিপন

চল্লিশ বছর বয়সী কসাই রিপন আলী। গত ১ দশক ধরে গবাদি পশুর মাথা সংগ্রহের পর তা ব্যবহার করে অত্যন্ত নান্দনিক শোপিস তৈরির এক ব্যতিক্রমী কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। মাটি বা কাঠের শোপিসের প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে তিনি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মাথাকে প্রক্রিয়াজাত করে শৈল্পিক শিল্পকর্মে রূপ দিচ্ছেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে শতাধিক এমন শৈল্পিক শোপিস রয়েছে।

 

 

শুরুর দিকে অনেক উপহাস পোহানোসহ নানা বাধার সম্মুখীন হলেও অবশেষে এই কঠিন কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তিনি। তার এই উদ্ভাবন এখন স্থানীয় দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

 

রিপনের মূল লক্ষ্য- তার এই কাজকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া, যাতে বন্যপ্রাণী নিধন হ্রাস পায় এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

রোববার (৮ জুন) বিকেলে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে একটি রুমে তিনি এসব পশুর শিংসহ মাথাগুলো থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন।

রিপন আলী বলেন, এ বিষয়ে মানুষ এখনো সেইভাবে জানে না। এখানে গরু ও ছাগলের মাথা থেকে তৈরি শোপিস বেশি। তার পরে ভেড়া ও মহিষের রয়েছে। সবাই শিং ওয়ালা মাথা নেয় না। যে শিং ওয়ালা মাথা দেখতে আকর্ষণীয় শুধু সেগুলোই নেয়।

রিপন আলীর এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম তৈরির পেছনের গল্পটি দীর্ঘ ১০ বছরের। ধৈর্য, মেধা এবং একাগ্রতার এক অনন্য কাহিনি। তিনি জানান, কসাইয়ের কাজ করতে করতে একদিন মহিষের অনেক বড় শিং ওয়ালা মাথা দেখতে পান রাজশাহীর শালবাগান কসাইপট্টিতে। সেখানকার কসাই মাথা থেকে শিং আলাদা করে ফেলে। এরপরে শিংটি সংগ্রহ করেন তিনি। বিশাল শিং দেখে তার কয়েকজন বন্ধু সংরক্ষনের ধারণাটি দেন যে- প্রাণীর মাথা থেকে তৈরি জিনিসগুলো ভবিষ্যতে মূল্যবান শোপিস হতে পারে। এই ভাবনা থেকেই তিনি ২০১৭ সালে এই কাজ শুরু করেন।

 

 

রিপন আলী আরও জানান- শুরুর দিকে অনেকেই তাকে নিয়ে উপহাস ও অসহযোগিতা করেছিলেন। এমনকি তার পরিবারও পশুর হাড়ের দুর্গন্ধ এবং এতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে বিরক্ত ছিল। তবে এখন দৃশ্যপট বদলেছে; এখন তার পরিবার এবং দর্শনার্থীরা তার এই নান্দনিক কাজের প্রশংসা করছেন।

 

 

তিনি জানান, এই শিল্পকর্ম তৈরির সঠিক পদ্ধতি বা প্রসেস জানার জন্য তিনি অনেক বিশেষজ্ঞ এবং এমনকি ডাক্তারদের পেছনেও ঘুরেছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং গবেষণার মাধ্যমে তিনি এই বিশেষ পদ্ধতিটি আয়ত্ত করেন।

 

 

উপকরণ সংগ্রহ হিসেবে তিনি তার কাজের জন্য কেবল দেশি গৃহপালিত পশুর (যেমন গরু, মহিষ ছাগল, ভেড়া) মাথা ব্যবহার করেন। যা তিনি বাজার থেকে কিনে নেন। এছাড়া বাঘ বা হরিণের মতো অন্য কোনো বন্যপ্রাণীর অঙ্গ ব্যবহার করেন না, যা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ বা অবৈধ।

 

 

অনেকেই এসেছেন তার এমন শিল্পকর্ম দেখতে। তবে তারা জানান- পশুর মাথা এমন ভাবে রাখা তারা দেখে এরআগে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা থেকে দেখতে এসেছেন মোকসেদ আলী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে জানি রিপন এই জিনিসগুলো তৈরি করে রেখেছে। জিনিসগুলা খুব ভালো, অনেক মূল্যবান জিনিস। বিশেষ করে রিপন কিছু ব্যয় করছে বা অনেক যত্ন করেছে। তো জিনিসগুলো আসলে খুব ভালো। সে কারণে আমার আসা। পছন্দ হলে আমি একটা নিয়ে যাব।

 

 

সুমাইয়া আক্তার বলেন- আমরা অনেক ধরনের শোপিস দেখেছি। পশুর মাথা ও শিং দিয়ে শোপিস তৈরি করা এই প্রথম দেখলাম। আইডিয়াটা আসল ইউনিট। এমন সাধারণত দেখা যায় না। এখানে আসার পরে দেখে অনেক ভালো লাগছে।

 

 

রাজশাহীর চারঘাট এলাকা থেকে রিপনের শোপিস দেখতে এসেছেন রাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এমন শোপিস সচরাচর চোখে পড়ে না। বড়লোকদের বাসায় হরিণের মাথা, চামড়া এ ধরনের শোপিস দেখা যায়। এটি রিপনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শিংগুলা দেখে একদম জীবন্ত মনে হচ্ছে। তার এখানে পশুর শুধু মাথার দাঁতসহ বিভিন্ন অংশের জিনিসপত্র পার্ট-পার্ট করে খুলে রাখা আছে।

 

 

এই উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়াই রিপন আলীর স্বপ্ন। তিনি মনে করেন, গৃহপালিত পশুর হাড় দিয়ে তৈরি এই শোপিসগুলো যদি সহজলভ্য হয়, তবে মানুষ বন থেকে বাঘ বা হরিণের মাথা ও চামড়া সংগ্রহের মতো অবৈধ কাজ বন্ধ করবে, যা বন্যপ্রাণী হত্যা রোধে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে তিনি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে একে একটি নতুন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।

 

ফুটবলে সাফল্যের স্বীকৃতি, ঋতুপর্ণাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহনির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে গৃহনির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।

 

 

এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্যানসারে আক্রান্ত ঋতুপর্ণার মা ভূজোপতি চাকমার চিকিৎসার জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পরিবারের হাতে চিকিৎসা সহায়তার অর্থ তুলে দেয়।

পাহাড়ি অঞ্চলের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ঋতুপর্ণা চাকমা কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও প্রতিভার মাধ্যমে জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ২০২২ ও ২০২৪ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঋতুপর্ণা। এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তার অবদান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

 

 

ক্রীড়াক্ষেত্রে তার এই সাফল্য শুধু দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেনি, বরং পার্বত্য অঞ্চলের অসংখ্য তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। একজন সংগ্রামী নারী ফুটবলারের জীবনমান উন্নয়নে গৃহনির্মাণ সহায়তার এই উদ্যোগকে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঋতুপর্ণা চাকমার এই সম্মাননা ও সহায়তা দেশের নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

উল্লেখ্য যে, ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় এই বিশেষ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়।

 

 

ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিভাবান যুবসমাজকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঋতুপর্ণাকে দেওয়া এই উপহার তারই একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত।

 

‘রকস্টার’ প্রযোজক স্বর্ণাকে কি এবার দেখা যাবে নায়িকারূপে?

পর্দার পেছনের কারিগর যখন নিজেই সৌন্দর্যের আলো ছড়ান, তখন ক্যামেরার সামনে তাঁর দাঁড়ানো স্রেফ সময়ের ব্যাপার মাত্র! বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে ঠিক তেমনই এক নতুন ঝড় তুলেছেন রিজুতি আহমেদ স্বর্ণা। তবে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চেনা ছক ভেঙে পর্দার সামনে নয়, ঢালিউডে তাঁর পা রাখা রাজকীয়ভাবে—একদম প্রযোজকের আসনে বসে। মেগাস্টার শাকিব খানের সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার ‘রকস্টার’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালী পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এই সুন্দরী। আর প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত! ‘রকস্টার’-এর আকাশচুম্বী সাফল্যের পর এবার নতুন এক গুঞ্জন ডালপালা মেলছে ঢালিউডের আনাচে-কানাচে। প্রযোজক স্বর্ণা কি তবে এবার নিজেই নতুন নায়িকা হিসেবে ধরা দিতে যাচ্ছেন ক্যামেরার সামনে?

 

 

নিজের এই নতুন পথচলা নিয়ে উচ্ছ্বসিত রিজুতি আহমেদ স্বর্ণা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই যাত্রা আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিন মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার পর বাংলা সিনেমায় কাজ শুরু করলাম, তাও আবার মেগাস্টারের সঙ্গে! তবে ‘রকস্টার’-এর এই যাত্রাটা মোটেও মসৃণ ছিল না। কঠিন হলেও এই পথচলা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাচ্ছি, তাতে পুরো ‘রকস্টার’ টিম মুগ্ধ ও কৃতজ্ঞ।‘

 

 

সময়ের এই আলোচিত প্রযোজক আগামীতে নিজেই নায়িকারূপে পর্দায় হাজির হবেন কিনা—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নেটিজেনদের মনে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে স্বর্ণা বেশ রহস্যই জিইয়ে রাখলেন। মৃদু হেসে তিনি বলেন, ‘আসলে একটি সাক্ষাৎকারের পর দর্শকদের অনেকেই দেখছি সেই ভিডিওটি শেয়ার করে আমাকে অভিনয় করার উৎসাহ দিচ্ছেন। সবার এই আগ্রহ আমাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। এখন দেখা যাক, সময় আসলে আমাকে কোন দিকে নিয়ে যায়।‘

অভিনয় নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু না জানালেও, ভিজ্যুয়াল মিডিয়া নিয়ে নিজের বড় স্বপ্নের কথা লুকাননি এই নারী প্রযোজক। কাজের প্রতি নিজের তাড়না প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শেখার কোনো শেষ নেই। তাই আগামী দিনগুলোতেও বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র এবং এই সৃজনশীল মিডিয়া জগতের জন্য কাজ করে যেতে চাই। নতুন গল্প বলতে চাই, নতুন স্বপ্ন গড়তে চাই। আমার মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের কনটেন্ট ও চলচ্চিত্রকে বিশ্ব দরবারে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া।‘

সিনেমার পেছনে থেকে যিনি প্রথমবারেই বাজিমাত করেছেন, তিনি সামনের দিনে পর্দার সামনে আসেন নাকি পেছনেই রাজত্ব করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে স্বর্ণার ভাষায়, ‘এই যাত্রা এখনও শেষ হয়নি। বরং মনে হয়, সত্যিকারের যাত্রা এখনই শুরু।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ বিষয়ক কর্মশালা উপজেলা মডেল মসজিদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ৯ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত  এ কর্মশালা বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ – ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন  চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার [ভূমি] সানাউল মোর্শেদ ও ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ আঃ বারিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার নাসিমউদ্দিন। এ কর্মশালায় বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে উপস্থিত প্রতিনিধিরা মতামত প্রদান করেন।
মতামত সমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল, যে ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বিচারের রায় মানতে তালবাহানা করে বা বিচারকালীন নোটিশে সাড়া দেয় না বা বিচার কার্যে অংশগ্রহণ করে না, এমতাবস্থায় গ্রাম আদালতের রায়  থানা পুলিশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। জবাবে সহকারী কমিশনার, ভূমি বলেন, সরকার আইন প্রণয়ন করলেই সেটা করা যাবে। গ্রাম আদালতের সেবা নিতে জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী সন্ধ্যা রানী।

প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে নারীর রহস্যজনক মৃত্যু

 

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে এসে লক্ষ্মী রানী (৩০) নামের এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক স্বপন (৪০) অধিকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

 

 

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুপুরে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের কান্দিকুল গ্রামের চিত্ত রায়ের বাড়ি থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

 

 

 

নিহত লক্ষ্মী রানী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার বীরেন্দ্র মন্ডলের মেয়ে। এদিকে আটক স্বপন অধিকারী একই জেলার সখিপুর গ্রামের রবীন্দ্র অধিকারীর ছেলে।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে প্রেমের টানে প্রেমিক স্বপনের হাত ধরে ধামরাইয়ে আসেন লক্ষ্মী রানী। রাতে কান্দিকুল গ্রামে চিত্ত রায়ের বাড়িতে অবস্থানকালে উভয়ের মধ্যে চরম মনমালিন্য হয়। একপর্যায়ে প্রেমিক স্বপন কৌশলে লক্ষ্মী রানীকে ঘরে একা রেখে অন্যত্র চলে যান। পরবর্তীতে ঘরের ভেতর ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লক্ষ্মী রানীর মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্য লুকিয়ে রয়েছে-এ নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

 

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

 

বেতন-ভাতা বাড়ার আভাস, বাজেটে সুখবর

পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপের বরাদ্দ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে থাকছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে ‘মিড ডে মিল’ ও ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ চালুর উদ্যোগও থাকছে নতুন বাজেটে।

 

 

এদিকে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি বিদেশি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে নতুন বাজেটে; নতুন ভাষা শিখতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটের মোট আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা; রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া এনবিআরের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যার ৪৮ শতাংশ পূরণ হবে বৈদেশিক উৎস থেকে আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ৫২ শতাংশ। এবার সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ থাকছে ৩০ শতাংশ। মেট্রোরেলেও ২৮ সাল পর্যন্ত থাকছে ভ্যাট অব্যাহতি। ঋণ ও আমানতে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারী শুল্ক মওকুফ। আগে ছিল ৩ লাখ টাকা। তবে স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ভ্যাট বসছে ২৫০০ টাকা। আর নতুন করে দেশীয় মদে লিটার প্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট দিতে হবে।

 

আরও ৩ শিশুর হামের উপসর্গে মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৪ জনের মধ্যে হাম বা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

 

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৮০ জন, যাদের মধ্যে ৯৩৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫৪ জন। সব মিলিয়ে গত ৮৬ দিনে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৮৪ জনে। এদের মধ্যে ৬৬ হাজার ১৭০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ছাড়া একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৮৩৩ জন।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ১ হাজার ১৪ জনসহ এখন পর্যন্ত মোট ৬২ হাজার ২৯২ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

 

‘আমাদের দা-কুড়াল সম্পর্ক না’ পূর্ণিমাকে নিয়ে বললেন শাবনূর

নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডের দুই জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন শাবনূর ও পূর্ণিমা। সমসাময়িক সময়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকায় তাদের সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের একাংশের মধ্যে নানা জল্পনা কল্পনা ছিল দীর্ঘদিন। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও সেই ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

 

 

নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাবনূরের সঙ্গে কাটানো একটি পুরোনো মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করেছেন পূর্ণিমা। ভিডিওটির সঙ্গে তিনি লিখেছেন শাবনূর শুধু একজন সফল তারকাই নন একজন অসাধারণ মনের মানুষও।

 

 

পোস্টে পূর্ণিমা লেখেন, ‘কিছু মানুষ শুধু তারকা নন তারা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকেন। বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শাবনূর আপু। পর্দার সাফল্যের বাইরেও তিনি একজন অসাধারণ মনের মানুষ। দুই তিন বছর আগে তার সঙ্গে কাটানো এই মুহূর্তটি আজও আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় স্মৃতিগুলোর একটি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘বাংলা সিনেমায় আপনার অবদান যেমন অবিস্মরণীয় তেমনি মানুষ হিসেবেও আপনি অসাধারণ। আপনাকে বড় পর্দায় খুব মিস করি। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।’

তবে ভিডিওটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল শাবনূরের একটি মন্তব্য। ক্যামেরার সামনে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘দেখো আমাদের কিন্তু একদম দা কুড়াল সম্পর্ক না!’

শাবনূরের এই মন্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই মনে করছেন দীর্ঘদিন ধরে দুই নায়িকার সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত নানা গুঞ্জনের জবাব যেন এক বাক্যেই দিয়ে দিয়েছেন তিনি।

 

 

ভিডিওটি প্রকাশের পর ভক্তদের অনেকেই নস্টালজিয়ায় ভাসছেন। তাদের মতে নব্বইয়ের দশকের দুই জনপ্রিয় তারকাকে একসঙ্গে দেখে পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরে এসেছে। একইসঙ্গে পর্দার প্রতিযোগিতার বাইরে দুই শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বিষয়টিও সামনে এসেছে নতুনভাবে।

 

প্রতি নাগরিকের বিপরীতে একাধিক সিম, দ্বিগুণে পৌঁছাল নিবন্ধন

দেশে বর্তমানে মোবাইল কোম্পানির বৈধ ৩২ কোটি ৮২ লাখ সিম নিবন্ধিত রয়েছে। যা দেশের জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ।

 

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির তারকা চিহ্নিত লিখিত প্রশ্নে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের কাছে জানতে চান যে, বর্তমানে দেশে মোবাইল কোম্পানির সংখ্যা কত? উক্ত মোবাইল কোম্পানির বৈধ সিমের সংখ্যা কত?

 

 

জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে মোবাইল কোম্পানির সংখ্যা চারটি। কোম্পানিগুলো হলো- টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা পিএলসি ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড। উক্ত মোবাইল কোম্পানিগুলোর বৈধ রেজিস্টার্ড সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ টাকা।

এদিকে ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।

 

 

উচ্চ আদালতে পৌঁছাল রামিসা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের নথি

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড (ডেথ রেফারেন্স) অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে এসেছে।

 

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুই আসামির ফাঁসির রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

 

 

ফৌজদারি কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত।

এর আগে গত ৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মৃত্যুদণ্ডের এ রায় ঘোষণা করেন।

পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

 

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

 

বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নীহা, বললেন ‘সবই বাস্তবতার অংশ’

গেল ঈদুল আজহায় প্রচারিত নাটকগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত নাম ‘মায়া পাখি’। নাটকের গল্প ও অভিনয় প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মজীবী নারীদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করায় সমালোচনার মুখেও পড়েছে এটি। এবার এই সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন নাটকের মায়া চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেত্রী নাজনীন নীহা।

 

 

সমালোচকদের জবাবে নীহা জানান সমাজে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে এবং বাস্তবতার আলোকেই গল্পটি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাস্তবে এরকম ঘটনা অনেক আছে। গল্পের প্রয়োজনে সেগুলোই তুলে ধরা হয়েছে। অবাস্তব কিছু দেখানো হয়নি। খারাপ কিছুও উপস্থাপন করা হয়নি। দর্শকদের জন্য শিক্ষণীয়ও বলতে পারেন। কেননা খারাপ কিছুর ফল কখনও ভালো আসে না। নাটকটি দেখে তারা এটা বুঝতে পারবেন।’

 

 

সমালোচনার পাশাপাশি নাটকটি নিয়ে দর্শক প্রশংসায়ও ভাসছেন এই অভিনেত্রী। এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব নির্মাতা ও সহশিল্পীকে দিয়ে নীহা বলেন, ‘এটা সম্ভব হয়েছে অপূর্ব ভাইয়া ও সৌখিন ভাইয়ার জন্য। এটা এভাবে করো ওটা ওভাবে করো ওনারা প্রত্যেকটি জিনিস এরকম ধরে ধরে বলে দিয়েছেন। আমিও আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করছি। আগেও বলেছি আমি শিখছি। এটা আমার শেখার সময়। সবাই পছন্দ করছে শুনে ভালো লাগছে। আরও ভালো করার চেষ্টা করব।’

উল্লেখ্য ‘মায়া পাখি’ নাটকটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক জাকারিয়া সৌখিন। গল্প ভাবনার পাশাপাশি এতে নীহার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। এরই মধ্যে ইউটিউবে বেশ সাড়া ফেলেছে নাটকটি।

 

অস্ট্রেলিয়াকে লড়াকু লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা

তানজিদ তামিম, শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেনের ফিটিতে ভর করে অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ১৫ বছর পর দেশের মাটিতে অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলতে নেমে প্রথমে ব্যাটিং করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

 

 

যদিও শুরুতেই সাঝঘরে ফেরেন সাইফ, এরপর আস্তে আস্তে পার্টনারশীপ গড়ে তোলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম। তবে দুজনেই ফিফটির পর আর উইকেটে থাকতে পারেননি। ৩৬ রানে দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে প্রায় ৪ বছর পর দলে ফিরেই মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াকু লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা।

 

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক। এছাড়া শান্ত করেন ৬৭ রান আর তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রান। তাসকিন শেষ দিকে খেলেন ১৫ বলে ২০ রানের কার্যকরী ইনিংস। তবে আজও ব্যর্থ হয়েছেন মিরাজ। এদিন ১২ বলে ৩ রান করে আউট হন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

তবে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে একাই লড়াই করেছেন মোসাদ্দেক। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির দিনে খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসও। নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগে ৭০ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার।

মোসাদ্দেকের সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন লোয়ার অর্ডারে নামা তাসকিন আহমেদ। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ২০ রান রান করেছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন নাথান এলিস। এছাড়া ম্যাট রেনশো ও লিয়াম স্কট ২ এবং ব্রাটলেট একটি উইকেট শিকার করেন।

দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিলে যোগ দিলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৪:১৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

শেরপুরে শিবু নামে আর্জেন্টিনার এক সমর্থক দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিলে যোগ দিয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) রাতে শেরপুর জেলা শহরের চাপাতলি এলাকার এ ঘটনা ঘটে।

 

 

জানা যায়, আর্জেন্টিনা সমর্থক শিবু গতরাতে সিদ্ধান্ত নেন দল বদল করে ব্রাজিলে যোগ দেবেন। পরে তাকে তার বন্ধুরা এবং ব্রাজিলের সমর্থকরা ১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাজিল শিবিরে যোগদান করান।

 

 

এ সময় ব্রাজিল সমর্থক মেহের খান অপু, আব্দুল্লাহ আল নাইম, রায়হান ইসলাম রাব্বী, জাকির হোসেনসহ ১০ থেকে ১২ জন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ব্রাজিল সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানান। দল পরিবর্তনের কারণ জানিয়ে শিবু বলেন, আমি শুধু মেসির কারণে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ।

 

 

বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে আগের মতো তারকাখচিত খেলোয়াড় নেই। তাই দলটির ওপর আগের মতো ভরসা পাচ্ছি না। অন্যদিকে ব্রাজিলের শৈল্পিক ফুটবল সবসময়ই আমার ভালো লাগে। নেইমার আমার প্রিয় খেলোয়াড়দের একজন। এসব কারণেই আমি ব্রাজিলকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

ব্রাজিল সমর্থক আলিম বলেন, ১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে শিবু ভাই আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাজিলের সমর্থক হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শুধু মেসির কারণে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছিলেন। কিন্তু এটি যেহেতু মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে এবং বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে আগের মতো ভালো খেলোয়াড় নেই বলে তিনি মনে করেন, তাই দলটির প্রতি তার আস্থা কমে গেছে।

 

অন্যদিকে ব্রাজিলের শৈল্পিক ফুটবল এবং নেইমারকে তার ভালো লাগে। এ কারণেই তিনি ব্রাজিলের সমর্থক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

ব্রাজিল সমর্থক জাকির হোসেন বলেন, শিবুর এই সিদ্ধান্তে আমরা স্বাগত জানাই। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এ ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক। তিনি এখন আমাদের ব্রাজিল শিবিরের অংশ, আমরা তাকে সঙ্গে নিয়ে ব্রাজিলের জয় কামনা করি।

 

বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যে শেরপুরের এই অভিনব দলবদলের ঘটনা এখন স্থানীয়দের আলোচনার অন্যতম বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সৈয়দপুরে অভিযানেও থামছে না মাদক: সহজেই মিলছে মদ-গাঁজা

মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান থাকলেও নীলফামারীর সৈয়দপুরে চোলাই মদ, ট্যাপেন্টাডল  ট্যাবলেট ও গাঁজার অবাধ বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে এসব মাদকদ্রব্য বিক্রি
হচ্ছে। ফলে বিশেষ করে নিম্নআয়ের তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদক নির্মূলে মে ও জুন মাসজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার পরও সৈয়দপুরে মাদকের সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের কয়েকটি এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চোলাই মদ, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজার কেনাবেচা চলে। বিশেষ করে নিম্নমূল্যের হওয়ায় এসব মাদকের প্রতি নিম্নআয়ের তরুণ ও শ্রমজীবী মানুষের চাহিদা বেশি। মাদকসেবীদের একটি অংশ চোলাই মদের সঙ্গে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট মিশিয়ে অধিক নেশাজাতীয় প্রভাব সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীরা কোমল পানীয়ের বোতল ও বিভিন্ন ব্যাগে করে মাদক বহন ও বিক্রি করে থাকে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে বিশেষ সংকেত বা কোড ব্যবহার হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হলেও তারা জামিনে বের হয়ে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে গোপন অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকা থেকে রাতের আঁধারে চোলাই মদ সৈয়দপুরে আনা হয়। মাদক বহনকারীরা সাধারণত সাইকেল ও জ্বালানিবাহী পাত্র ব্যবহার করায় সহজে সন্দেহের উদ্রেক হয় না। পরে এসব মাদক শহরের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
তবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদক সরবরাহের উৎস শনাক্ত করে ধারাবাহিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাকিব হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বেগমগঞ্জে প্রকাশ্যে রাজমিস্ত্রিকে গুলি করলো দূর্বৃত্তরা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে ফারুক হোসেন (২৭) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কালামিয়ার পোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ফারুক হোসেন হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ফারুক হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালামিয়ার দোকান এলাকায় রাস্তার পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে তার তলপেট ও হাঁটুতে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত ফারুককে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, ফারুকের তলপেট ও হাঁটুতে গুলি লেগেছে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান বলেন, দুর্বৃত্তরা আকস্মিকভাবে ওই যুবককে গুলি করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি স্থানীয় গ্যাং বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে আ.লীগ! তবে….

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব মানদণ্ড রয়েছে সেগুলো পূরণ করতে পারলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অংশ নিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।

 

আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী দেশে আছেন, তাদের কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে সরকার সেই স্পেস বা সুযোগ দেবে কি না?

 

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মি. রহমান বলেন, “কোনো রকম কোনো সমস্যা নেই… মানে একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের, কারণ, এটা নির্দলীয়।”

 

”তবে সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায়, প্রচার প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের কথা বা তাদের যা বলা সেগুলো সামনে এনে প্রচারণা চালান তাহলে সেটা সমস্যা”, বলেন মি. রহমান।

 

তিনি বলেন, “ব্যক্তি হিসেবে যে কেউ যদি ক্রাইটেরিয়া যা যা আছে সেটি ফুলফিল করতে পারে, তিনি যদি মনে করেন যে তিনি নির্বাচন করবেন তিনি নির্বাচন করতে পারেন। সরকারের দিক থেকে বাঁধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।”

 

স্কুলছাত্রী হত্যার আসামির বাড়িতে আগুন: তিনজন নিহত

  • রিপোর্টার:
  •  আপডেট টাইম : ০৩:৩৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

পাবনায় স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন হত্যার জেরে প্রধান আসামি নাঈমের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনে দগ্ধ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একজন এবং মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে অপর দুজনের মৃত্যু হয়।

 

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির, একই এলাকার ইউসুফের ছেলে সাবু এবং পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ।

 

 

তারা ঘটনার সময় প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা নাঈমের সঙ্গে স্কুলছাত্রী রিয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

 

 

গত ২ জুন সকালে নাঈমের বাড়িতে রিয়ার সাথে পাওনা টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নাঈম। পরে দুই বন্ধুর সহায়তায় লাশ একটি প্রাইভেটকারে করে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পীরপুর এলাকার পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন ৩ জুন নদী থেকে রিয়ার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ এবং ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা প্রধান আসামি নাঈমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। সে সময় নাঈমের পরিবারের কেউ বাড়িতে না থাকলেও, ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আগুন নেভাতে আসা প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতার বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন ৮ জুন বিকেলে ও সাবু এবং সাব্বিরের ৯ ‍জুন সকালে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

এবার শিশুর চিকৎসা করাতে এসে হাসপাতালে গণধর্ষণের শিকার মা

এবার শিশু সন্তানের চিকিৎসা করতে এসে গণধর্ষণের শিকার হলেন মা। ঘটনাটি ঘটেছে নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন সুইপারের বিরুদ্ধে। শিশুটির জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

 

এ সময় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ঘটনাটি প্রকাশ করলে ভিডিও ছাড়ার হুমকি দেন অভিযুক্তরা। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত সুইপারদের ডাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ওই নারীকে আইনি পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সুইপারদের ডেকে শুধু শাসিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত তিন সুইপারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের ওই তিন সুপারভাইজার আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন— সুইপার অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গন (২৪)।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর ২ বছর বয়সী শিশুকন্যা অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৫ জুন তাকে নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। শিশুটির বাবা পেশায় অটোচালক। গত ৮ জুন সকাল ১০টায় শিশুটির বাবা হাসপাতালে স্ত্রী- সন্তানের খোঁজ নিতে এসে দেখেন তারা কেউ সেখানে নেই।

 

এ সময় তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন তার স্ত্রী ও কন্যাকে হাসপাতালে নার্সদের থাকার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন একটি বেডে তার স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে শুয়ে আছেন। এ সময় তার স্ত্রী জানান, গত ৭ জুন সকাল ১০টায় শিশুর জন্য ওষুধ নিতে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয়ে অভিযুক্ত সুইপার অমিত তাকে ডাকতে আসেন। শিশুটিকে রেখে তিনি অমিতের সঙ্গে হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলায় গেলে সেখানে অনিল ও প্রাঙ্গণ নামে অপর দুই সুইপারের সহায়তায় অমিত তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় পুরো ঘটনাটি অনিল ও প্রাঙ্গন মোবাইলে ভিডিও করে।

 

অমিতসহ অন্যরা ঘটনাটি না জানাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

 

এদিকে, শিশুকে রেখে তার মা চলে যাবার পর সে কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতালের নার্সরা তার মাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এ সময় তাকে না পেয়ে হাসপাতালের সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় ৬ষ্ঠ তলার ঘটনাটি। তখন হাসপাতালের আনসার সদস্যরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে।

 

হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে ছয় তলার সিঁড়িতে গিয়ে তাদের পাই। এরপর তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমে অভিযুক্তরা ঘটনাটি স্বীকার করেনি। পরে যখন ভুক্তভোগী নারী চড়াও হন তাদের ওপর তখন তারা সব স্বীকার করে।

 

হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মন্নাফ হোসেন দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী নারী বলেন, অমিত আমাকে ধর্ষণ করে। অপর দুজন ভিডিও করে মোবাইলে। অমিতের পর তারাও আমার সঙ্গে এমনটা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সময় হাসপাতালের লোকজন এসে পড়ায় তারা পালিয়ে যায়।

 

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

ঘটনাটি জানার পর কেন অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হলো এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি জানান, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

 

নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, বিষয়টি জানা আছে। মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নোয়াখালীতে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ২১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুধারাম থানাধীন দক্ষিণ কাদির হানিফ এলাকার জনৈক মামুনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মো. ওমর ফারুক সোহান (৩৭), পিতা-মৃত মাহাবুবুর রহমান, মাতা-রাশেদা বেগম, সাং-জয় কৃষ্ণপুর (রাশেদা মঞ্জিল), ৪নং পৌর ওয়ার্ড, নোয়াখালী পৌরসভা, থানা-সুধারাম, জেলা-নোয়াখালীকে আটক করা হয়।
আটকের পর তার দেহ তল্লাশি করে ২১ (একুশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হাকিমপুরে ৭২৭ দু:স্থ নারীর মাঝে ভিডাব্লিউবি’র চাল বিতরণ

 

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক ‘ভলনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত গ্রামীণ দুস্থ ও অসহায় নারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৭২৭ জন কার্ডধারী নারীর প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়।
আজ সকাল ১১টার দিকে চাল বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজিমুল হোসেন এবং তদারকি কর্মকর্তা ও হাকিমপুর উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মশিউর রহমান বকুল, আক্তার হোসেন বাবু, মাসুদ রানা এবং মহিলা ইউপি সদস্য বুলবুলি খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
চাল নিতে আসা কয়েকজন দুস্থ নারী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাজারে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম অনেক বেশি। এই কঠিন সময়ে প্রতি মাসে ফ্রিতে ৩০ কেজি করে চালের বস্তা পাওয়া আমাদের মতো গরিব ও দুস্থ পরিবারের জন্য অনেক বড় সুবিধা। অন্তত চাল কেনার বাড়তি চিন্তাটা করতে হচ্ছে না। আমরা সরকারের এই উদ্যোগের জন্য মন থেকে দোয়া করি।
বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নাজিমুল হোসেন জানান, সরকারি সব নির্দেশনা ও সঠিক নিয়ম মেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে বোয়ালদাড় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের অতি দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় ৭২৭ জন কার্ডধারী নারীর মাঝে এই চাল সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা হয়েছে। অসহায় মানুষের কল্যাণে সরকারের এই সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।

রামিসার পাশের বাসার ৫ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সম্প্রতি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বাসার পাশের বাড়ি থেকে ইব্রাহিম নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শিশুটির আশপাশে যাকে শেষবার দেখা যায়, তিনি বাড়িওয়ালার ছেলে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

 

 

এ বিষয়ে দুদিন আগে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ বলছে, বাড়িওয়ালার ছেলের যুক্ত থাকার বিষয়ে তাদের কাছে এখনো কোনো প্রমাণ নেই।

 

 

নিখোঁজ শিশুটির বাবা-মা জানান, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও বাসার সামনে খেলছিল ইব্রাহিম। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ঠিক ৭টা ২১ মিনিটে তাকে হঠাৎ বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে সে একা ছিল না; তার পেছনে পেছনে এক ব্যক্তিকেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

 

 

ভেতরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইব্রাহিমের একটি চিৎকার শোনা যায়। এর মাত্র কয়েক মিনিট পর ভেতরে প্রবেশ করা সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কিন্তু ইব্রাহিমের আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

 

জানা গেছে, শিশুটির পরিবার যে বাড়িতে থাকে, তা রামিসাদের ভবন থেকে মাত্র ৩ গলি দূরে। বাড়িটির ছাদে সবাইকে যেতে দেওয়া হয় না। ঘটনার সময় ছাদটি যথারীতি তালাবদ্ধ ছিল। ছাদে যাওয়ার একমাত্র চাবিটিও বাড়ির মালিকের কাছে থাকে। ফলে এত অল্প সময়ের মধ্যে শিশুটি কোথায় উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে বড় ধরনের রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করছেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের কখনো কোনো ধরনের ঝগড়া বা মনোমালিন্য হয়নি। তবে তাদের অভিযোগ, বাড়িওয়ালার দুই ছেলে মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই তারা পরিকল্পিতভাবে এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে সন্দেহ তাদের।

 

 

এ বিষয়ে ইব্রাহিমের বাবা বলে, ‘আমরা এখানে ১০ বছর ধরে আছি। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। বাড়িওয়ালার দুই ছেলে নেশা আর অনলাইন জুয়া খেলেন। আমাদের ধারণা, টাকার জন্যই তারা আমার নিষ্পাপ সন্তানকে আটকে রেখেছেন।’

 

 

এ ঘটনার পর পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘নিখোঁজ শিশুটির পরিবার দুদিন আগে মামলা করেছে। আমরা তদন্ত করছি। তবে তারা আমাদের কাছে বাড়িওয়ালার ছেলেদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি।’

 

 

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরপুর জোনের মিরপুর জোনের ডিসি মোস্তাক সরকার কালবেলাকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পরিবার আমাদের কাছে বাড়িওয়ালার ছেলের বিষয়ে কিছু জানাননি। এমন প্রমাণও এখন পর্যন্ত নেই। যদি তারা অভিযোগ করেন, আমরা খতিয়ে দেখব।’

সূত্র: কালবেলা

রায়গঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পূর্বলক্ষীকোলা গ্রামে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, সোমবার (৮ জুন) দুপুরে রায়গঞ্জ পৌরসভার পূর্বলক্ষীকোলা গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী (৪৫) দুই শিশুকে বিড়ি কিনে আনার জন্য ৩০ টাকা দেন। পরে শিশুরা স্থানীয় একটি দোকান থেকে ২৫ টাকার বিড়ি ও ৫ টাকার ফুচকা কিনে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে পৌঁছালে হযরত আলী শিশুদের ঘরের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে তিনি সাত বছর বয়সী শিশুটিকে বিছানায় শুইয়ে তার পোশাক খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। পরে দুই শিশুকে ২০ টাকা করে দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে বের করে দেন।
শিশুটি বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি তার মাকে জানালে বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির মা রায়গঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জেনেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা যায়। পাশাপাশি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরগুলোও বন্ধ থাকায় তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, বিষয়টি থানার নজরে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসাবে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কামারখন্দে ৩০ পরিবার অবরুদ্ধ: নেই লাশ বের করার রাস্তাও

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের কালিবাড়ি পলাশডাঙ্গা গ্রামে প্রায় ৩০টি পরিবার চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একই গ্রামের আব্দুল মজিদ দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ঘর নির্মাণ করায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সূত্রে জানা যায়, তারা আব্দুল মজিদের কাছ থেকেই জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। জমি বিক্রির সময় চলাচলের জন্য একটি রাস্তা থাকলেও সম্প্রতি সেই রাস্তা বন্ধ করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এলাকাটির প্রায় ৩০টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

 

 

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে তারা একটি সংকীর্ণ বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছেন। তবে সেই পথ এতটাই সরু যে সাইকেল নিয়েও চলাচল করা কষ্টসাধ্য। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিকল্প পথের সীমানা ঘেঁষেও ঘর নির্মাণ করায় চলাচলে আরও দুর্ভোগ বেড়েছে।

 

এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন বেশ কয়েকবার এলাকাবাসীকে নিয়ে রাস্তা বের করার উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। তিনি দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি খাস শ্রেণিভুক্ত।

 

অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রায় ৩০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। চলাচলের প্রধান রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কোনো যানবাহন প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।”

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা বেগম বলেন, “আমাদের এমন অবস্থা হয়েছে যে, কেউ মারা গেলে লাশ বের করার মতো রাস্তাও রাখা হয়নি। যে বিকল্প পথ দিয়ে যাতায়াত করছি, সেখানে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়েও চলাচল করা কঠিন। কিছু বলতে গেলে আব্দুল মজিদের ছেলে ও ভাতিজারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়।”

 

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের চলাচলের জন্য স্থায়ীভাবে রাস্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মজিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এক মাসে দুইবার তেঁতুল গাছের মগডালে সাজেদা বেগম!

এক মাস পার হতে না-হতেই আবারো আলোচনায় সাজেদা বেগম। এক মাসের ব্যবধানে দুইবার তেঁতুল গাছের মগডালে উঠে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ওই নারী।
আজ সোমবার সকালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গোড়াই আনন্দবাজারে এক মাসের ব্যবধানে আবারো তেঁতুল গাছের মগডালে ওঠেন সাজেদা বেগম। তিনি ওই গ্রামের আবু সাঈদের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাজেদা বেগম এর আগেও একইভাবে ওই গাছের মগডালে উঠেছিলেন। গত মাসের ৬ মে তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা মিলে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ের একটি তেঁতুল গাছের মগডালে তাঁর দেখা পান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রচেষ্টায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
তবে মাস পেরোতেই আবারও সেই একই রকম ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। খবরটি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পরিবার এবং স্থানীয়রা ওই নারীকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা চালায়। এরপর সাজেদা বেগম স্বাভাবিকভাবে গাছ থেকে না নেমে পাশে থাকা পুকুরে ঝাঁপ দেন।
একই ঘটনা দেখে অনেকে অনেক রকম মন্তব্য করছেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। কেউ কেউ এটাকে মানসিক সমস্যা, আবার কেউ কেউ জ্বীন-ভূতের আছর বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে সাজেদা বেগমের স্বামী আবু সাঈদ ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, এর আগে গত ৬ মে সে একইভাবে তেঁতুল গাছের উপরে ওঠে। পরে আমরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের জানালে তারা এসে উদ্ধার করেন। গত মাসের মতো আজ সকালেও সে নিখোঁজ ছিল। আমরা অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে গাছের উপর দেখতে পাই। পরে বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের ভিড় শুরু হয়। সবার বলাবলির একপর্যায়ে আমার স্ত্রী গাছ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেয়। আমরা তাকে ভালো ডাক্তার দেখিয়ে আসল সমস্যা চিহ্নিত করব এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নেব, যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধকে হত্যার বিচার দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় মামলা নথিভুক্তের দাবিতে লাশ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
নিহত আফাজ উদ্দিন (৬২) উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, জমিতে থাকা গাছের পাতা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাছের পাতা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় গত ৩ জুন প্রতিপক্ষের ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন আফাজ উদ্দিনের পরিবার। অভিযোগের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে একই দিন ভোররাতে অভিযুক্তরা আফাজ উদ্দিনের শয়নকক্ষে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
স্থানীয়রা তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (৬ জুন) বিকেলে তিনি মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর কয়েকদিন পার হলেও পুলিশ তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করেনি। এ কারণে সোমবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে করে আফাজ উদ্দিনের মরদেহ থানার সামনে এনে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
বিক্ষোভকারীরা মামলা নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. নুর হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সোমবার নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আগে অভিযোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের জন্য ফেরত দেওয়া হয়। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেনবাগে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের এক পরিচালকসহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে ২ জন, কিশোর গ্যাংয়ের পরিচালক হিসেবে ১ জন এবং ধর্তব্য অপরাধ নিবারণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।